October 13, 2026, 11:37 pm
নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর মাধবদী ও আশপাশের এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঔদাসীন্যতা কিংবা রহস্যজনক নিরবতার সুয়োগে নির্গত অনিয়ন্ত্রিত শিল্পবর্জ্যে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীসহ স্থানীয় জলাশয়গুলোতে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পোশাক ও ডাইং খাতের বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত রঙিন পানি সরাসরি নদীতে নিষ্কাশন করায় নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
একাধিক সূত্র এবং ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানিয়েছে, পরিবেশ বিধ্বংসী এ কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছে স্থানীয় ‘এমএমকে ডাইং’ এর মালিক কাইয়ুম মোল্লা। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির তোয়াক্কা না করে, প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে দাপটের সাথে ইটিপি ব্যবহার না করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, কারখানাটিতে তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয় বাঁচাতে তা নিয়মিত চালু রাখা হয় না। ইটিপি বাইপাস করে অপরিশোধিত বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য ড্রেন ও খাল হয়ে সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে।
ফলে একসময়ের স্বচ্ছ পানির নদীগুলো এখন কুচকুচে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে পরিণত হয়েছে। নদীভিত্তিক জীবিকা ধ্বংসের পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দারা চর্মরোগসহ নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। কর ফাঁকি ও প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন পরিবেশ আইন অমান্য করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রাজস্ব ও কর ফাঁকির বিষয়েও স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর এই অপকর্ম চালিয়ে যাওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর কঠোর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। প্রশাসনিক এই নিষ্ক্রিয়তার পেছনে টাকার জোর ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। পদ-পদবি ও রাজনৈতিক প্রভাবের ব্যবহার অভিযোগ রয়েছে, অর্থনৈতিক ক্ষমতার দাপটে কাইয়ুম মোল্লা নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক পদে আসীন হয়েছেন।
এছাড়া ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পরিবর্তনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পূর্বে ক্ষমতাসীন দলের দাপট দেখানোর পর বর্তমানে তিনি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে নিজের প্রভাব বজায় রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে গুঞ্জন চরমে। কঠোর তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবি নদী ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন মাধবদীর সচেতন নাগরিক সমাজ। অনতিবিলম্বে এমএমকে ডাইংয়ের পরিবেশগত ছাড়পত্র, ইটিপির নিয়মিত ব্যবহার এবং আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। পরিবেশ ধ্বংসকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।